
লিভারে মেদ জমা মোটেও ভালো কথা নয়। ফ্যাটি লিভারের সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। এর পাশাপাশি রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রাও বাড়ছে। আপনার হার্ট ও লিভার কতটা সুস্থ, তা মাত্র তিনটি পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভব।
গতানুগতিক লিভার ফাংশন টেস্ট বা সাধারণ লিপিড প্যানেল পরীক্ষায় সব তথ্য ধরা পড়ে না। লিভারে মেদ জমার প্রাথমিক পর্যায়ে যে পরিবর্তনগুলো শুরু হয়, সেগুলোও এসব পরীক্ষায় নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা যায় না। তবে বর্তমানে এমন কিছু আধুনিক পরীক্ষাপদ্ধতি এসেছে, যার মাধ্যমে ফ্যাটি লিভার, অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, এমনকি রক্তনালিতে চর্বি জমে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে কি না, তাও জানা যায়।
অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘদিন ধরে রক্তে ভাসতে থাকা এই চটচটে পদার্থ একসময় ধমনীর দেয়ালে জমতে শুরু করে। ফলে রক্ত চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দেয়। আগে ২০ বা ৩০ বছর বয়স পার হওয়ার পর কোলেস্টেরল পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হতো। তবে এখন সেই ধারণা বদলেছে। নতুন কিছু পরীক্ষাপদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন শনাক্ত করা সম্ভব। এমনকি ছোটবেলা থেকেই এসব পরীক্ষা করানো যেতে পারে। এতে শুরু থেকেই বোঝা যাবে লিভার ও হার্ট কতটা সুস্থ রয়েছে। কী কী পরীক্ষা করাতে পারেন?
ফাইব্রোস্ক্যান
এ পরীক্ষার জন্য সুচ ফোটানোর প্রয়োজন হয় না। শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে লিভারে মেদ জমছে কি না বা লিভারে ক্ষত তৈরি হয়ে তা সিরোসিসের পর্যায়ে পৌঁছেছে কি না, তা নির্ণয় করা যায়। এটি সম্পূর্ণ যন্ত্রণাহীন এবং অনেকটা আলট্রাসাউন্ড পরীক্ষার মতো। লিভারে মেদ জমার প্রাথমিক অবস্থাই শনাক্ত করতে পারে এই পরীক্ষাপদ্ধতি।
এফআইবি-৪ স্কোর
এটি কোনো আলাদা স্ক্যান নয়। রক্ত পরীক্ষার তথ্যের ভিত্তিতে গাণিতিক মডেল ব্যবহার করে একটি স্কোর নির্ধারণ করা হয়। রোগীর বয়স, রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা এবং লিভার থেকে নিঃসৃত কিছু এনজাইমের (এএসটি ও এএলটি) অনুপাত বিশ্লেষণ করে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি আছে কি না বা ভবিষ্যতে লিভার ক্যানসারের আশঙ্কা রয়েছে কি না, তা মূল্যায়ন করা হয়।
অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি
এটি সাধারণ কোলেস্টেরল পরীক্ষা নয়। অ্যাপোলিপোপ্রোটিন বি এমন একটি প্রোটিন, যা কোলেস্টেরল বহনকারী ক্ষতিকর কণার মধ্যে থাকে। রক্তে এই প্রোটিনের মাত্রা বেশি হলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেশি বলে মনে করা হয়। এ পরীক্ষার মাধ্যমে রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কতটা জমেছে এবং ভবিষ্যতে হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে কি না, তা জানা যায়।
এ ছাড়া চিকিৎসকেরা আরও একটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন, সেটি হলো ক্যারোটিড আলট্রাসাউন্ড। এ পরীক্ষার মাধ্যমে ধমনীর দেয়াল কতটা পুরু হয়েছে এবং চর্বি জমে কোনো ব্লকেজ তৈরি হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করা যায়। সময়মতো এই পরীক্ষা করালে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।