ঢাকা | বঙ্গাব্দ

বন্যার ক্ষতি কাটাতে ফের জমিতে ব্যস্ত কৃষক

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Aug 16, 2026 ইং
বন্যার ক্ষতি কাটাতে ফের জমিতে ব্যস্ত কৃষক ছবির ক্যাপশন:
গত মাসে টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের চন্দনাইশসহ চার উপজেলার অধিকাংশ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। সবজিক্ষেত ও আউশ-আমনের বীজতলা পুরোপুরি নষ্ট হয়।
তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মাঠে আবারও ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চন্দনাইশ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ঘুরে দাঁড়াতে জমিতে শাক-সবজি চাষ শুরু করেছেন। এ জন্য কঠোর অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। এ জন্য তাদের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে সরকারি কৃষি অধিদপ্তর।

ইতিমধ্যে কৃষকদের হাতে পৌঁছে গেছে সরকারি প্রণোদনা হিসেবে আমন ধানের বীজ। তবে এর পাশাপাশি শাক-সবজির বীজ ও সার সহায়তা দিলে কৃষকদের লোকসান কমিয়ে আনতে অনেকটা সহায়ক হবে বলে জানান শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকার নিজাম উদ্দিন, সিরাজুল ইসলাম, আবু তৈয়বসহ অনেক কৃষক।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, শঙ্খ নদীর তীরবর্তী এলাকায় তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পুষিয়ে স্বল্প মেয়াদি অর্থাৎ ১০ দিনের মধ্যে তোলা যায় এমন শাক যেমন লাল শাক, কপি শাক ও মূলা শাক। অনেক কৃষক এখন করলা, বরবটি, পেঁপে ও ঢেঁড়শ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।

বৈলতলী ও বরমা এলাকার কৃষকরা অল্প সময়ে বেশি ফলনের আশায় শাক-সবজির মধ্যে উচ্চ ফলনশীল বীজ ও চারা রোপণের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। কৃষকদের মতে, এতে বন্যায় যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা কিছুটা হলে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হতে পারে।

দোহাজারী লালুটিয়া এলাকার প্রবীণ কৃষক আব্দুর রহমান জানান, তাদের বাপ-দাদার পেশা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা। তাদের মতো তিনিও কৃষিকাজের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছরের মতো এ বছরও ভালো ফুল-ফল ধরেছিল গাছে। কিন্তু পাহাড়ি ঢলে তার ১০ একর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

দোহাজারী রায় জোয়ারা এলাকার কৃষক ভোলা মিয়ার ভাষ্য, বন্যার পর অধিকাংশ জমি ধু ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। জমি পুনরায় চাষের উপযোগী করতে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। যদি সামনে ভারি বৃষ্টি না হয়, আশা করি সবজির ভালো মূল্য পাওয়া যাবে।

এ ব্যাপারে চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আজাদ হোসেন জানান, চন্দনাইশে বন্যার পর সাত হাজার ৯০০ জন কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে পাঁচ কেজি করে আমন বীজ ধান দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আট হাজার ২৪৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষ হবে। স্বল্পমেয়াদি এই উচ্চ ফলনশীল বীজ থেকে  ১২০ থেকে ১২৫ দিনের মধ্যে ঘরে ধান তোলা সম্ভব। 

কৃষিবিদ আজাদ হোসেন আরো জানান, পর্যায়ক্রমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকার প্রণোদনা হিসেবে আগামীতে সার ও কীটনাশক দিতে পারে। কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের সবাই কৃষকদের ভালো ফলনের জন্য সব সময় পরামর্শ দিচ্ছি এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স
Logo

বন্যার ক্ষতি কাটাতে ফের জমিতে ব্যস্ত কৃষক

www.dailyneighbour.com
নিউজ লিংক কমেন্টে
Aug 16, 2026